Sunday, 13 September 2026
গত ২৫ বছরে এসএসসিতে কতজন পেয়েছে GPA-5? এক নজরে পূর্ণ পরিসংখ্যান
নিউজ 📅 12 Aug 2026

গত ২৫ বছরে এসএসসিতে কতজন পেয়েছে GPA-5? এক নজরে পূর্ণ পরিসংখ্যান

বাংলাদেশের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফলে প্রতি বছরই জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা নিয়ে আগ্রহ থাকে। সময়ের সঙ্গে পরীক্ষার্থী সংখ্যা, শিক্ষাব্যবস্থা ও ফলাফল প্রকাশের পদ্ধতিতে পরিবর্তন এসেছে। ফলে একেক বছরে সর্বোচ্চ ফল অর্জনকারী শিক্ষার্থীর সংখ্যাতেও দেখা গেছে উল্লেখযোগ্য ওঠানামা।

বাংলাদেশে এসএসসি পরীক্ষার ফলাফলে গ্রেডিং পদ্ধতির ব্যবহার শুরু হয় ২০০১ সালে। সেই বছর মাত্র ৭৬ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ অর্জন করেছিল। এরপর কয়েক বছরের মধ্যে এই সংখ্যা দ্রুত বাড়তে থাকে।

২০২৫ সালের ফলাফলে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ লাখ ৩৯ হাজার ৩২ জন শিক্ষার্থী। অন্যদিকে ২০২২ সালে এই সংখ্যা ছিল সর্বোচ্চ পর্যায়ের একটি—২ লাখ ৬৯ হাজার ৬০২ জন

বছরভিত্তিক এসএসসিতে GPA-5 পাওয়ার পরিসংখ্যান

২০০১ সাল থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা নিচে দেওয়া হলো:

বছরGPA-5 প্রাপ্ত শিক্ষার্থী
২০০১৭৬ জন
২০০২৩২৭ জন
২০০৩১,৩৮৯ জন
২০০৪৮,৫৯৭ জন
২০০৫১৫,৬৩১ জন
২০০৬২৪,৩৮৪ জন
২০০৭২৫,৭৩২ জন
২০০৮৪১,৯১৭ জন
২০০৯৪৫,৯৩৪ জন
২০১০৫২,১৩৪ জন
২০১১৬২,২৮৮ জন
২০১২৮২,২১২ জন
২০১৩৯১,২২৬ জন
২০১৪১,৪২,২৭৬ জন
২০১৫১,১১,৯০১ জন
২০১৬১,০৯,৭৬১ জন
২০১৭১,০৪,৭৬১ জন
২০১৮১,১০,৬২৯ জন
২০১৯১,০৫,৫৯৪ জন
২০২০১,৩৫,৮৯৮ জন
২০২১১,৮৩,৩৪০ জন
২০২২২,৬৯,৬০২ জন
২০২৩১,৮৩,৫৭৮ জন
২০২৪১,৮২,১২৯ জন
২০২৫১,৩৯,০৩২ জন

উপরের ধারাবাহিক পরিসংখ্যান থেকে দেখা যায়, ২০০১ সালে মাত্র ৭৬ জন দিয়ে শুরু হলেও পরবর্তী সময়ে জিপিএ-৫ প্রাপ্তির সংখ্যা ব্যাপকভাবে বেড়েছে। ২০১৪ সালে প্রথমবারের মতো এই সংখ্যা ১ লাখ ৪০ হাজারের বেশি হয়। এরপর কয়েক বছর কিছুটা কম-বেশি হলেও ২০২১ ও ২০২২ সালে আবার বড় ধরনের বৃদ্ধি দেখা যায়।

২০২২ সালে ছিল সর্বোচ্চ GPA-5

গত ২৫ বছরের পরিসংখ্যানের মধ্যে ২০২২ সালে সবচেয়ে বেশি শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছে। ওই বছর মোট ২ লাখ ৬৯ হাজার ৬০২ জন শিক্ষার্থী সর্বোচ্চ জিপিএ অর্জন করে।

এর পরের বছর থেকেই সংখ্যাটি কমতে শুরু করে। ২০২৩ সালে জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা নেমে আসে ১ লাখ ৮৩ হাজার ৫৭৮ জনে। ২০২৪ সালে এই সংখ্যা ছিল ১ লাখ ৮২ হাজার ১২৯ জন

২০২৫ সালের চিত্র

২০২৫ সালের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় ১ লাখ ৩৯ হাজার ৩২ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছে। অর্থাৎ ২০২৪ সালের তুলনায় এবার সর্বোচ্চ জিপিএ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা আরও কমেছে।

এতে বোঝা যায়, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জিপিএ-৫ পাওয়ার সংখ্যা আগের কয়েক বছরের তুলনায় নিম্নমুখী হয়েছে। তবে শুধু জিপিএ-৫-এর সংখ্যা দিয়ে কোনো বছরের শিক্ষার মান বা শিক্ষার্থীদের সামগ্রিক যোগ্যতা নির্ধারণ করা যায় না। পরীক্ষার প্রশ্নের ধরন, মূল্যায়ন পদ্ধতি, পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ও বিভিন্ন বছরের বিশেষ পরিস্থিতিও ফলাফলের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।

শুরু থেকে বর্তমান—একটি বড় পরিবর্তনের গল্প

২০০১ সালের মাত্র ৭৬ জন থেকে ২০২২ সালের ২ লাখ ৬৯ হাজার ৬০২ জন—এই পরিসংখ্যান বাংলাদেশের এসএসসি ফলাফলে দীর্ঘ সময়ের পরিবর্তনের একটি চিত্র তুলে ধরে।

বিশেষ করে ২০০১ থেকে ২০১৪ সালের মধ্যে জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা দ্রুত বেড়েছে। ২০১৪ সালে ১ লাখ ৪২ হাজার ২৭৬ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পাওয়ার পর পরবর্তী কয়েক বছর সংখ্যাটি কিছুটা কমে আসে। আবার ২০২০ থেকে ২০২২ সালের মধ্যে তা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়।

এরপর ২০২৩, ২০২৪ ও ২০২৫ সালে ধারাবাহিকভাবে জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমেছে।

শেষ কথা

এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পাওয়ার পরিসংখ্যান শুধু একটি সংখ্যার হিসাব নয়; এর মাধ্যমে গত দুই দশকের বেশি সময়ে দেশের মাধ্যমিক পর্যায়ের ফলাফলের পরিবর্তনের একটি ধারণাও পাওয়া যায়।

২০০১ সালে যেখানে মাত্র ৭৬ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছিল, সেখানে ২০২২ সালে সেই সংখ্যা বেড়ে ২ লাখ ৬৯ হাজারের বেশি হয়। আবার পরবর্তী বছরগুলোতে সংখ্যাটি কমে ২০২৫ সালে ১ লাখ ৩৯ হাজার ৩২ জনে দাঁড়িয়েছে।

শিক্ষার্থীদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো শুধু জিপিএ-৫ নয়, বরং বিষয়ভিত্তিক জ্ঞান, দক্ষতা ও পরবর্তী শিক্ষাজীবনের প্রস্তুতি। তাই ফলাফলের পরিসংখ্যানের পাশাপাশি শিক্ষার প্রকৃত মান নিয়েও গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।

তথ্যসূত্র: প্রকাশিত এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলাফল-সংক্রান্ত তথ্য এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদন। মূল প্রতিবেদন হিসেবে Dainik Shiksha-র ২৫ বছরের GPA-5 পরিসংখ্যানভিত্তিক প্রতিবেদনটি দেখা হয়েছে।

Tags:
get_footer(); ?>